www.agrovisionbd24.com
শিরোনাম:

বিলুপ্তপ্রায় বঁইচি ফলের নতুন জাত উদ্ভাবন

 এগ্রোভিশন ডেস্ক    [ ২৬ অক্টোবর ২০১৯, শনিবার, ১১:৪২   কৃষি গবেষণা বিভাগ]



শহুরে জীবনে অপরিচিত হলেও দেশের দক্ষিণাঞ্চলে একটি জনপ্রিয় ফল কাঁটাবহরী বা বঁইচি। গ্রামগঞ্জে সাধারণত ক্ষেতের পাশে ঝোপঝাড়ে বেশি জন্মায় এটি। পাওয়া যায় পাহাড়ের ঢালেও। গাছ ঝোপালো এবং গাছের শাখা কাঁটাযুক্ত। এ কারণে ফলটি কাটাবহরী নামেও পরিচিত।

বর্তমানে বন উজাড় হওয়ায় গাছটি বিলুপ্ত প্রজাতির তালিকায়। সাধারণত ফাল্গুন-চৈত্র মাসে ফুল ধরে বঁইচি গাছে। পাঁচ পাপড়িযুক্ত ক্ষুদ্রাকৃতির ফুল। জ্যৈষ্ঠ মাস থেকে ফল পাকতে শুরু করে। কাঁচা ফল গোলাকার সবুজ। পাকলে রক্ত বেগুনি রং পায়। অনেকটা কালো জাম ফলের মতো। গোলাকার আঙ্গুরের মতো বঁইচি খেতে অম্ল ও মিষ্টি স্বাদযুক্ত।

বৈজ্ঞানিক নাম Flacourtia indica, পরিবার Selicaceae। ইংরেজি নাম Governor's Plum। বঁইচি গাছের মূলের রস নিউমোনিয়া এবং পাতার নির্যাস জ্বর, কফ ও ডায়রিয়া নিরাময়ে ব্যবহৃত হয়। পাতা ও মূল অনেকে সাপের কামড়ের প্রতিষেধক হিসেবে ব্যবহার করে। বাকলের অংশ তিলের তেলের সঙ্গে মিশিয়ে বাতের ব্যথা নিরাময়ে মালিশ তৈরি করা হয়। কিন্তু জনপ্রিয় এই ফলটি এখনো বাণিজ্যিকভাবে এর বাজারজাত শুরু হয়নি। প্রচুর পুষ্টি ও ঔষধিগুণ সমৃদ্ধ এই গাছ রক্ষায়ও কোনো ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এই গাছ রক্ষা হয়নি তেমন কোনো গবেষনাও।

বঁইচি নিয়ে দেশে ব্যাপক-বিস্তৃত কোন গবেষণা না হলেও পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যানতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. মাহবুব রব্বানী আট বছর ধরে বঁইচি ফল নিয়ে গবেষণা চালাচ্ছেন। সম্প্রতি এটাকে কৃষি মন্ত্রণালয় থেকে অনুমতি দিয়েছে। কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীনে জাতীয় বীজ বোর্ড পিএসটিইউ বঁইচি-১ নামে এই ফলের অনুমোদন দিয়েছে।

ড. মাহবুব বলেন, বর্তমানে বিলুপ্তপ্রায় গুরুত্বপূর্ণ ফল বঁইচি। ফলটি বাংলাদেশের গ্রাম অঞ্চলে প্রাকৃতিকভাবে জন্মে। অবহেলা, অযত্ন এবং নির্বিচার কেটে ফেলার কারণে ফলটি অনেকটা বিলুপ্তির পথে। গবেষণায় দেখা গেছে, এই ফলের পুরুষ ও স্ত্রী- দুই ধরনের গাছ রয়েছে। জোড় কলম এবং শাখা কলমের মাধ্যমে স্ত্রী গাছের বংশবিস্তার করে দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে ফল পাওয়া সম্ভব। বাজারে এই ফলের প্রচুর চাহিদা রয়েছে। কারণ এতে আছে ভিটামিন, মিনারেল এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। কৃষি মন্ত্রণালয় থেকে এই ফলের অনুমোদন দিয়েছে, আগামী বছর থেকে এটি আমরা কৃষকের মাঝে বিস্তৃত পরিসরে ছড়িয়ে দিতে পারবো।

তিনি জানান, বর্তমানে পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের জার্মপ্লাজম সেন্টারে ১০টি মাতৃগাছ, ৫০টি জোড় কলম এবং ২০০ এর অধিক চারা আছে।

বঁইচি গবেষনায় জড়িত পিএইচডি শিক্ষার্থী চিত্র রঞ্জন সরকার এবং মাস্টার্সের শিক্ষার্থী সুস্মিতা বড়াল। ড. মাহবুব বলেন, এরইমধ্যে বাহ্যিক বৈশিষ্ট্য, পুষ্পায়ন এবং ফল ধারণের বৈশিষ্ট্যাবলী শনাক্ত সম্পন্ন হয়েছে। এ ছাড়া বিভিন্ন রাসায়নিক উপাদান নির্ণয় করা সম্ভব হয়েছে। বর্তমানে ডিএনএ পর্যায়ে শনাক্তকরণ কাজ চলছে।




 এ বিভাগের আরও


 দেশে নতুন প্রজাতির ব্যাঙ আবিষ্কার


 করোনা সংকটেও ৪৭৭ টি গবেষণা সম্পন্ন করেছে বাকৃবি


 দুধের পুষ্টিমান বাড়াবে ঔষধি ঘাসের মিশ্রণ


 বাকৃবিতে ব্রুসেলোসিস সংক্রামক রোধে গবেষণা প্রকল্পের সমাপনী অনুষ্ঠিত


 সাশ্রয়িভাবে ররি মাল্টা-১ চাষ পদ্ধতি


 অভিনব বায়োফ্লক পদ্ধতিতে মাছ চাষ পদ্ধতি


 করোনার এক কিটে দুই নমুনা পরীক্ষাঃ বিএলআরআই'র সুসংবাদ


 ডেইরি খামার পরিষ্কারে স্বয়ংক্রিয় যন্ত্র উদ্ভাবন


 চেরি টমেটোর নতুন জাতের সফল অভিযোজন


 ন্যানো ফার্টিলাইজার ও ন্যানো ফিশ ফিড


 পাঙ্গাশ মাছের বিস্কুট-চানাচুর


 পোল্ট্রি শিল্পে এন্টিবায়োটিকের বিকল্প উদ্ভাবন


 সারাবছর চাষযোগ্য পেঁয়াজ 'বারি-৫'


 সৌরবিদ্যুৎ চালিত ইনকিউবেটর উদ্ভাবন, স্বল্প মূল্যে উৎপাদিত হবে অধিক বাচ্চা


 চা ও মাছের বর্জ্য থেকে মিলবে জ্বালানী ও সার





সম্পাদক ডাঃ মোঃ মোছাব্বির হোসেন
ঠিকানা: বাসা-১৪, রোড- ৭/১, ব্লক-এইচ, বনশ্রী, ঢাকা
মোবাইল: ০১৮২৫ ৪৭৯২৫৮
agrovisionbd24@gmail.com

© agroisionbd24.com 2019