www.agrovisionbd24.com
শিরোনাম:

চেরি টমেটোর নতুন জাতের সফল অভিযোজন

 এস এ    [ ১৯ ডিসেম্বর ২০১৯, বৃহস্পতিবার, ১১:০০   কৃষি গবেষণা বিভাগ]



দীর্ঘ পাঁচ বছর গবেষণায় দেশীয় আবহাওয়ায় হলুদ চেরি টমেটোর একটি উচ্চ ফলনশীল জাত অভিযোজন করতে সক্ষম হয়েছেন শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) একদল গবেষক। শেকৃবির উদ্যানতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. এ এফ এম জামাল উদ্দিনের তত্ত্বাবধানে এই জাত নিয়ে গবেষণা করেছেন স্নাতকোত্তরের শিক্ষার্থী রাকিবুজ্জামান মনি এবং ভারত থেকে শেকৃবিতে মাস্টার্স করতে আসা রাহুল শেখ।

গবেষকরা জানান, এই জাতটি সারা দেশেই উৎপাদনক্ষম। এরই মধ্যে জাতটির নিবন্ধন দিয়েছে জাতীয় বীজ বোর্ড। বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে জাতটির নাম রাখা হয়েছে- ‘সাউ ইয়েলো চেরি টমেটো’ (গোল্ডেন পূর্ণা)। দেশে টমেটোর এই জাত চাষে দ্বিগুণ ফলন পাওয়া যাবে বলে।

গবেষক দলের প্রধান ড. এ এফ এম জামাল উদ্দিন বলেন, সাধারণত একটি টমেটো গাছের স্থায়িত্ব ৩-৪ মাস হয়ে থাকে। কিন্তু এই চেরি টমেটো গাছের স্থায়িত্বকাল ৫-৬ মাস। ফলে প্রায় ২ মাস ফলন বেশি পাওয়া যাবে। ফলে কৃষক লাভবান হবে। এটি হাইব্রিড জাত না হওয়ায় কৃষকরা সহজেই বীজ সংগ্রহ এবং সংরক্ষণ করতে পারবে। নিজেরাই বীজ থেকে চারা করতে পারবে।

গাছের বিশেষ বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে তিনি বলেন, যেখানে একটি গাছ থেকে একটি নির্দিষ্ট সময় পর একবারে টমেটো সংগ্রহ করা হয়, সেখানে এই চেরি টমেটোর গাছ থেকে বিভিন্ন সময়ে টমেটো সংগ্রহ করে কৃষক বাজারে বিক্রি করতে পারবে। গাছ বড় হতে থাকবে আর ফলন দিতে থাকবে। হলুদ রঙের টমেটো সহজেই সবাইকে আকৃষ্ট করবে। এছাড়া এর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেশি। এ টমেটোতে রয়েছে ক্যারোটিনয়েড যা চোখের জন্য উপকারী।

ফলন সম্পর্কে গবেষকরা জানান, সাধারণত একটি টমেটো গাছ থেকে ৩- ৪ কেজি টমেটো পাওয়া যায়। এই জাতের গাছ থেকে ৭-৮ কেজি টমেটো পাওয়া যাবে। হেক্টর প্রতি ফলন পাওয়া যাবে প্রায় ১৬০ টন যা অন্যান্য জাতের তুলনায় দ্বিগুণ। একটি গাছ থেকে ৭-৮ টি শাখা বের হয়ে থাকে। যেখানে একটি থোকায় প্রায় ২৪০-২৬০ টি টমেটো ধরে। প্রতিটি ফলের ওজন হবে ৫-৬ গ্রাম। ফল গোল হলুদ বর্ণের হবে। চারা লাগানোর ৩০-৩২ দিনেই ফুল আসতে শুরু করবে। দেশীয় টমেটোর মতোই এর চাষ পদ্ধতি। এটি বাসার ছাদে সহজেই চাষ করা যাবে। গাছ দুই মিটারের বেশি লম্বা হয়। জৈব সার বেশি দিলে ভালো ফলন পাওয়া যাবে বলে জানান গবেষকদল।

মাঠ পর্যায়ে নেয়ার ব্যাপারে ড. এ এফ এম জামাল উদ্দিন বলেন, জাতটি কৃষক পর্যায়ে ছড়িয়ে দিতে আগামী বছরেই ফ্রিতে বীজ বিতরণ শুরু করব। তবে জাতটি জনপ্রিয় করতে সরকারি সহযোগিতা প্রয়োজন। তাহলে দ্রুত মাঠ পর্যায়ে পৌঁছবে।




 এ বিভাগের আরও


 দেশে নতুন প্রজাতির ব্যাঙ আবিষ্কার


 করোনা সংকটেও ৪৭৭ টি গবেষণা সম্পন্ন করেছে বাকৃবি


 দুধের পুষ্টিমান বাড়াবে ঔষধি ঘাসের মিশ্রণ


 বাকৃবিতে ব্রুসেলোসিস সংক্রামক রোধে গবেষণা প্রকল্পের সমাপনী অনুষ্ঠিত


 সাশ্রয়িভাবে ররি মাল্টা-১ চাষ পদ্ধতি


 অভিনব বায়োফ্লক পদ্ধতিতে মাছ চাষ পদ্ধতি


 করোনার এক কিটে দুই নমুনা পরীক্ষাঃ বিএলআরআই'র সুসংবাদ


 ডেইরি খামার পরিষ্কারে স্বয়ংক্রিয় যন্ত্র উদ্ভাবন


 চেরি টমেটোর নতুন জাতের সফল অভিযোজন


 ন্যানো ফার্টিলাইজার ও ন্যানো ফিশ ফিড


 পাঙ্গাশ মাছের বিস্কুট-চানাচুর


 পোল্ট্রি শিল্পে এন্টিবায়োটিকের বিকল্প উদ্ভাবন


 সারাবছর চাষযোগ্য পেঁয়াজ 'বারি-৫'


 সৌরবিদ্যুৎ চালিত ইনকিউবেটর উদ্ভাবন, স্বল্প মূল্যে উৎপাদিত হবে অধিক বাচ্চা


 চা ও মাছের বর্জ্য থেকে মিলবে জ্বালানী ও সার





সম্পাদক ডাঃ মোঃ মোছাব্বির হোসেন
ঠিকানা: বাসা-১৪, রোড- ৭/১, ব্লক-এইচ, বনশ্রী, ঢাকা
মোবাইল: ০১৮২৫ ৪৭৯২৫৮
agrovisionbd24@gmail.com

© agroisionbd24.com 2019