মহান আল্লাহ জীবজন্তু থেকে উপকার গ্রহণের পাশাপাশি মানবজাতিকে তাদের নিয়ে গবেষণা করতে উদ্বুদ্ধ করেছেন। কেননা মানবজাতি থেকে জীবিত ও মৃত উভয় অবস্থা থেকে উপকার লাভ করে থাকে। তাই তাদের দুধের উৎপাদন বৃদ্ধি করা, তাদের মাধ্যমে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির ব্যবস্থা করা ও নতুন নতুন প্রজাতির আবিষ্কারের জন্য গবেষণা করা প্রয়োজন। আল্লাহ বলেন, তোমাদের জন্যে অবশ্যই শিক্ষনীয় আছে পশু-সম্পদে। তোমাদের আমি পান করাই তাদের উদরে যা আছে তা হতে এবং তাতে তোমাদের জন্যে রয়েছে প্রচুর উপকারিতা এবং তা থেকেই তোমরা গোশত আহার কর। “আল-কুরআন, মু’মিনুন :২১।”
“ওয়া ইন্নালাকুম ফিল আনআমি” এর ব্যাখ্যায় মুফাসসিরগণ বলেন, এখানে “ইবরাতা” অর্থ শিক্ষনীয় নিদর্শন, দলিল-প্রমাণ, যা আল্লাহ তাআলার পরিপূর্ণ শক্তিমত্তার পরিচায়ক। সাধারণ মানুষের দৃষ্টিতে চতুষ্পদ জন্তুর মাঝে শিক্ষণীয় কিছু নেই। তাই আল্লাহ তাআলা এখানে “ইন্না” বা অবশ্যই অব্যয় ব্যবহার করেছেন। শব্দটি ব্যবহারের মাধ্যমে দৃঢ়তা প্রকাশ করা হয়েছে বিশ্বাসী-অবিশ্বাসী সকলের প্রতি। অত:পর “লাকুম” তোমাদের জন্যে। অর্থাৎ সকল মানুষের চতুষ্পদ জন্তুর মাঝে শিক্ষণীয় বিষয় রয়েছে। “কাজী মুহাম্মদ সানাউল্লাহ উসমানী, তাফসীরে মাজহারী, প্রাগুক্ত, খ.৮, পৃ:১২৪।”
তিনি আরো ইরশাদ করেন: অবশ্যই গবাদি পশুর মাঝে তোমাদের জন্য শিক্ষা রয়েছে। তাদের উদরস্থিত গোবর ও রক্তের মধ্য হতে তোমাদেরকে পান করাই বিশুদ্ধ দুধ, যা পানকারীদের জন্যে সুস্বাদু। “আল-কুরআন, আন নাহল :৬৬।”
আল্লাহ বিভিন্ন প্রকার জীবজন্তু সৃষ্টি করেছেন। পৃথিবীতে বিভিন্ন জাতের গবাদিপশু আছে। এগুলোর মধ্যে পরীক্ষ-নিরীক্ষা ও গবেষণা এগুলোর মান উন্নত করা যায়। “এম. শামসুল আলম, ইসলামী প্রবন্ধমালা, প্রাগুক্ত, পৃ:৪৫৫।”
উল্লেখ্য যে, দুগ্ধ যে শুধু সুস্বাদু তা নয়, বিশুদ্ধও। কিভাবে পশুর দেহে দুগ্ধ সৃষ্টি হয়, এ সম্পর্কে মানুষের জন্য শিক্ষনীয় বিষয় আছে। তা থেকে শিক্ষা গ্রহণ করা এবং এ বিষয়ে গবেষণা করা অবশ্যই মানুষের কর্তব্য। আল-কুরআনে বহু বিষয়ের সামান্য ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। চিন্তু-ভাবনা ও গবেষণা করে মানুষ তাদের কল্যাণের জন্যে অনেক কিছু আবিষ্কার করতে পারে। “প্রাগুক্ত, পৃ:৪৫৬।”
আল্লাহ তাআলা জীবজন্তুর মাঝে যে সকর উপকার রেখেছেন তা গ্রহণ করতে হলে তাদের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। তাদের খাদ্য, বাসস্থান, চিকিৎসা ও উৎপাদন বৃদ্ধি নিশ্চিত করতে হবে। তাদের কোন প্রকার মানসিক ও শারীরিক কষ্ট না দিয়ে উপকার গ্রহণ করতে হবে। যার মাধ্যমে মানবজাতি নিজেদের স্বাস্থ্য ও পুষ্টি নিশ্চিত করতে পারে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মও তাদের থেকে উপকার লাভ করতে পারবে। এই আলোচনা দ্বারা এটাও প্রমাণিত হলো যে, ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবন ব্যবস্থা। এখানে শুধু মানুষের অধিকারই নিশ্চিত করা হয়নি বরং সকল জীবজন্তুর অধিকারও নিশ্চিত করা হয়েছে।